ময়মনসিংহ ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার জুলাই আহত সাংবাদিক

দৈনিক মুক্তকণ্ঠ
  • আপলোড সময়: ০৭:১৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৭৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:-ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার দৈনিক মানবকণ্ঠের সংবাদকর্মী ও জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম (দুখু) বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৪র্থ তলার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিপরীত পাশে ভর্তি আছেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর আনসার রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ তার নাক ও মুখ দিয়ে প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের ঘটনা হালুয়াঘাট নাগলা বাজার এলাকায় ঘটেছিল বলে জানা গেছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তারের অফিস সময় শেষ হওয়ার পর ওয়ার্ডে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও ওয়ার্ড বয় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকেও তিনি বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের অন্যান্য ভুক্তভোগী রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে অনেক রোগীকেই বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। প্রশাসনিক বিভাগে যোগাযোগ করেও সঠিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে কিছু সূত্রে যানা যায়, বরং চাটুকারিতা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সেবা দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রশাসনিক বিভাগে গিয়েও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম (দুখু) ও জুলাই যোদ্ধা সুবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও চরম ভোগান্তির শিকার হন। এতে তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থারও অবনতি ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জেলা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

ট্যাগস :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ময়মনসিংহে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার জুলাই আহত সাংবাদিক

আপলোড সময়: ০৭:১৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:-ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার দৈনিক মানবকণ্ঠের সংবাদকর্মী ও জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম (দুখু) বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৪র্থ তলার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিপরীত পাশে ভর্তি আছেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর আনসার রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ তার নাক ও মুখ দিয়ে প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের ঘটনা হালুয়াঘাট নাগলা বাজার এলাকায় ঘটেছিল বলে জানা গেছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তারের অফিস সময় শেষ হওয়ার পর ওয়ার্ডে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও ওয়ার্ড বয় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকেও তিনি বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের অন্যান্য ভুক্তভোগী রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে অনেক রোগীকেই বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। প্রশাসনিক বিভাগে যোগাযোগ করেও সঠিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে কিছু সূত্রে যানা যায়, বরং চাটুকারিতা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সেবা দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রশাসনিক বিভাগে গিয়েও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম (দুখু) ও জুলাই যোদ্ধা সুবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও চরম ভোগান্তির শিকার হন। এতে তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থারও অবনতি ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জেলা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।