ময়মনসিংহ ১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহিমান্বিত কদরের রাতের অলৌকিকতা ও কবি আব্দুর রশিদের আপসোস

দৈনিক মুক্তকণ্ঠ
  • আপলোড সময়: ০৫:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

খলিলুর রহমান:- শবে কদর বা লাইলাতুল কদর, এর অর্থ “অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী।

মহা বরকতময় ও মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর রাতের মহিমা ও গুরুত্ব নিয়ে পবিত্র কোরআন পাক ও হাদিস শরিফে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।

মূল আলোচনায় যাওয়াও আগে একটি কবিতা ও কবির আফসোস নিয়ে সামান্য আলোচনা করতে চাই। মহিমান্বিত এই রাতের মর্যাদা ও অলৌকিকতা নিয়ে পবিত্র কোরআন পাক ও হাদিস শরিফে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, ক’জনের ভাগ্য হয়েছে মহান রবের পক্ষ থেকে সেই রাতের অলৌকিকতা প্রত্যক্ষ করবার! এমন একজন আছেন যিনি লাইলাতুল বা শবে কদরের রাতের মহান অলৌকিকতার একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
তিনি হলেন, আসপাডা পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, কবি ও লেখক লায়ন আলহাজ¦ মোঃ আব্দুর রশিদ।

মহিমান্বিত এই রাতকে উপলক্ষ করে কবি সাহিত্যিক লায়ন আলহাজ¦ মোঃ আব্দুর রশিদ “জাগাও চিত্তে সুখ” নামক একটি কবিতা রচনা করেন। ভালোবাসায় উদ্দীপনা নামক কাব্য গ্রন্থে কবিতাটি সন্নিবেশিত হয়েছে।

পাঠকদের জন্য কবিটা উল্লেখ করছি,
“জাগাও চিত্তে সুখ”
জীবন সায়াহ্নে কালো করে মেঘ জমেছে ঈষাণ কোণে,
তবুও প্রজাপতির রং, সাগরের কলধ্বনি সুর জাগায় মনে।
জানেনা এমন কাহারে দিবে মালা, তবুও মালা গাঁথা চাই,
মালা গাঁথার মাঝে যে সুর সঙ্গীত আছে, সুর খুঁজি তাই।
আঁধার মনে যার বাঁশি বাজে, খুঁজি তারে আমার সকল কাজে,
দেখিনা তারে, আবার চারিদিকে তাকালে দেখি সকল সাজে।
দেখেছি “লায়লাতুল কদর” ১৪৩০ বঙ্গাব্দে ২৩ রমজান শুক্রবার রাত ১২.৩২ ঘটিকায়, যেই রাতে কোরআন নাযিল হয়েছিল, সেই রাতে বৃক্ষরাজিও পড়েছিল সেজদায়।
প্রমাণ পেলাম বরিশালে সচিব লোকমান ও উনার স্ত্রীর সাথে ছাদে, দেখা হলো বৃক্ষরাজির হেলানো মাথা, জোসনারাত, নিরব চারিদিক, কোনো বাতাস নেই অথচ পশ্চিম দিকে উল্টে আছে সকল গাছের পাতা।
মনে হলো বৃক্ষরাজি নতশীরে করিছে সেজদা, দেখে তার স্রষ্টারে, মানুষ হয়ে কেন দেখিতে পারি না স্রষ্টারে, বড় সাধ দেখিবারে তারে।
দেখা দাও, দেখা দাও বাক্যহীনা মহাবাণী, রেখো না ঢাকিয়া মুখ, আমার সব আশা, ভরসা তুমি, বাণী দাও অন্তরে, জাগাও চিত্তে সুখ।
কবি আব্দুর রশিদ লাইলাতুল কদর বা শবে কদর রাতে সকল বৃক্ষরাজির সেজদা দেখে এই কবিতাটি রচনা করেন।

কবিতার ভাবার্থে তিনি লিখেন, আমি এ কবিতাটি লিখি ‘সবে কদরের’ গাছপালা সমূহের সেজদা দেখে। ২৩ শে রমজান শুক্রবার ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২.৩২ মিনিটে যখন ছেহেরী খেতে গিয়ে বরিশালে তৎকালিন স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও উনার স্ত্রীর সাথে ছাদে। জোসনা রাত, কোনো বাতাস নেই অথচ গাছগুলোর পাতাসমূহ পশ্চিম দিকে উল্টে আছে। তখন আমি লোকমান স্যারকে বললাম-স্যার আমার ভিতর কেমন যেন একটা পুলকিত ভাব লাগছে। প্রকৃতির এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি।

লোকমান স্যার বললেন- দেখেন রশিদ সাহেব নারিকেল গাছের পাতাসমূহ পশ্চিম দিকে কেমন উল্টে আছে। আমি বললাম স্যার কাঁঠাল গাছের পাতাসমূহ ঝড় না আসলে এমনভাবে উল্টে থাকে না। রাতে গাছ কি এমনি করে ঘুমায়? লোকমান স্যার উত্তরে বললেন- জানি না, আমি এমন দৃশ্য আর কোনোদিন দেখিনি। আমাদের মনে হয়নি যে আজ ২৩ রমজান সবে কদরের রাত্রি। মনে হলো পরদিন যখন হিসাব করে দেখা গেল যে রাত ১২.৩২ ঘটিকায় শুক্রবার এবং ২৩ শে রমজান ছিল।
সেদিনের রাতের অলৌকিকতা দেখার পর থেকে আজ পর্যন্ত যখনই তিনি সেই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার কেঁদে ফেলেন। একটাই আফসোস তার, কেনো তখন বুঝতে পারলেন না যে, দোয়া কবুল হওয়ার তথা মুক্তি পাওয়ার মুহুর্তটি হাড়িয়ে ফেলছেন! সেই থেকে কবি আব্দুর রশিদের আফসোসের যেন শেষ নেই।

আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফ কি বলে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী,
লাইলাতুল কদরের রাত বা শবে কদর এমন একটি মহিমান্বিত রাত যে রাতের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন পাকে মহান আল্লাহপাক বলেন, নিশ্চয়ই আমি এটা (অর্থাৎ কোরআন) শবে কদরে নাজিল করেছি। তুমি কি জান শবে কদর কী? শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। সে রাত আদ্যোপান্ত শান্তি ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা কদর, আয়াত : ১-৫)
যে রাতে মানবজাতির ভাগ্য পুনর্র্নিধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অর্থাত লাইলাতুল ক্বদর অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। কুরআনের বর্ণনা অনুসারে, মহান আল্লাহ পাক এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে আমরা বিশ্বাস করি।রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হেরা গুহায় যে রাতে আল্লাহর ফেরেশতা অহী নিয়ে এসেছিলেন সেটি ছিল রামাদান বা রমজান মাসের একটি রাত। এই রাতকে এখানে কদরের রাত বলা হয়েছে। সূরা দোখানে এটাকে মুবারক রাত বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে, “অবশ্যি আমি একে কোরআন) একটি বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি। “সূরা আদ-দুখান:-৩। কোরআন পাকে সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, লাইলাতুল-কদর রামাদান মাসে। কিন্তু সঠিক তারিখ সম্পর্কে আলেমগণের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। সহীহ হাদীসদৃষ্টিতে রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল-কদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল-কদর অন্বেষণ কর। “বুখারী: ২০২১। অন্য বর্ণনায় আছে “তোমরা তা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে তালাশ কর। “বুখারী: ২০২০, মুসলিম: ১১৬৯ ও তিরমিযী: ৭৯২।
সুতরাং লাইলাতুল-কদর রাত যে রামাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে ঘূর্ণায়মান এনিয়ে হাদীসসমূহ তথা আলেমগণের মধ্যে কোন বিরোধ পরিলক্ষিত হয়নি।
আসুন, মহিমান্বিত এই রাতের মহান আল্লাহ পাকের কুদরত বরকত অন্বেষণে সফলকাম হই।
এই আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সময় সুযোগে আমরা আলোচনা করবো।

ট্যাগস :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

মহিমান্বিত কদরের রাতের অলৌকিকতা ও কবি আব্দুর রশিদের আপসোস

আপলোড সময়: ০৫:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

খলিলুর রহমান:- শবে কদর বা লাইলাতুল কদর, এর অর্থ “অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী।

মহা বরকতময় ও মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর রাতের মহিমা ও গুরুত্ব নিয়ে পবিত্র কোরআন পাক ও হাদিস শরিফে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।

মূল আলোচনায় যাওয়াও আগে একটি কবিতা ও কবির আফসোস নিয়ে সামান্য আলোচনা করতে চাই। মহিমান্বিত এই রাতের মর্যাদা ও অলৌকিকতা নিয়ে পবিত্র কোরআন পাক ও হাদিস শরিফে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, ক’জনের ভাগ্য হয়েছে মহান রবের পক্ষ থেকে সেই রাতের অলৌকিকতা প্রত্যক্ষ করবার! এমন একজন আছেন যিনি লাইলাতুল বা শবে কদরের রাতের মহান অলৌকিকতার একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
তিনি হলেন, আসপাডা পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, কবি ও লেখক লায়ন আলহাজ¦ মোঃ আব্দুর রশিদ।

মহিমান্বিত এই রাতকে উপলক্ষ করে কবি সাহিত্যিক লায়ন আলহাজ¦ মোঃ আব্দুর রশিদ “জাগাও চিত্তে সুখ” নামক একটি কবিতা রচনা করেন। ভালোবাসায় উদ্দীপনা নামক কাব্য গ্রন্থে কবিতাটি সন্নিবেশিত হয়েছে।

পাঠকদের জন্য কবিটা উল্লেখ করছি,
“জাগাও চিত্তে সুখ”
জীবন সায়াহ্নে কালো করে মেঘ জমেছে ঈষাণ কোণে,
তবুও প্রজাপতির রং, সাগরের কলধ্বনি সুর জাগায় মনে।
জানেনা এমন কাহারে দিবে মালা, তবুও মালা গাঁথা চাই,
মালা গাঁথার মাঝে যে সুর সঙ্গীত আছে, সুর খুঁজি তাই।
আঁধার মনে যার বাঁশি বাজে, খুঁজি তারে আমার সকল কাজে,
দেখিনা তারে, আবার চারিদিকে তাকালে দেখি সকল সাজে।
দেখেছি “লায়লাতুল কদর” ১৪৩০ বঙ্গাব্দে ২৩ রমজান শুক্রবার রাত ১২.৩২ ঘটিকায়, যেই রাতে কোরআন নাযিল হয়েছিল, সেই রাতে বৃক্ষরাজিও পড়েছিল সেজদায়।
প্রমাণ পেলাম বরিশালে সচিব লোকমান ও উনার স্ত্রীর সাথে ছাদে, দেখা হলো বৃক্ষরাজির হেলানো মাথা, জোসনারাত, নিরব চারিদিক, কোনো বাতাস নেই অথচ পশ্চিম দিকে উল্টে আছে সকল গাছের পাতা।
মনে হলো বৃক্ষরাজি নতশীরে করিছে সেজদা, দেখে তার স্রষ্টারে, মানুষ হয়ে কেন দেখিতে পারি না স্রষ্টারে, বড় সাধ দেখিবারে তারে।
দেখা দাও, দেখা দাও বাক্যহীনা মহাবাণী, রেখো না ঢাকিয়া মুখ, আমার সব আশা, ভরসা তুমি, বাণী দাও অন্তরে, জাগাও চিত্তে সুখ।
কবি আব্দুর রশিদ লাইলাতুল কদর বা শবে কদর রাতে সকল বৃক্ষরাজির সেজদা দেখে এই কবিতাটি রচনা করেন।

কবিতার ভাবার্থে তিনি লিখেন, আমি এ কবিতাটি লিখি ‘সবে কদরের’ গাছপালা সমূহের সেজদা দেখে। ২৩ শে রমজান শুক্রবার ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২.৩২ মিনিটে যখন ছেহেরী খেতে গিয়ে বরিশালে তৎকালিন স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও উনার স্ত্রীর সাথে ছাদে। জোসনা রাত, কোনো বাতাস নেই অথচ গাছগুলোর পাতাসমূহ পশ্চিম দিকে উল্টে আছে। তখন আমি লোকমান স্যারকে বললাম-স্যার আমার ভিতর কেমন যেন একটা পুলকিত ভাব লাগছে। প্রকৃতির এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি।

লোকমান স্যার বললেন- দেখেন রশিদ সাহেব নারিকেল গাছের পাতাসমূহ পশ্চিম দিকে কেমন উল্টে আছে। আমি বললাম স্যার কাঁঠাল গাছের পাতাসমূহ ঝড় না আসলে এমনভাবে উল্টে থাকে না। রাতে গাছ কি এমনি করে ঘুমায়? লোকমান স্যার উত্তরে বললেন- জানি না, আমি এমন দৃশ্য আর কোনোদিন দেখিনি। আমাদের মনে হয়নি যে আজ ২৩ রমজান সবে কদরের রাত্রি। মনে হলো পরদিন যখন হিসাব করে দেখা গেল যে রাত ১২.৩২ ঘটিকায় শুক্রবার এবং ২৩ শে রমজান ছিল।
সেদিনের রাতের অলৌকিকতা দেখার পর থেকে আজ পর্যন্ত যখনই তিনি সেই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার কেঁদে ফেলেন। একটাই আফসোস তার, কেনো তখন বুঝতে পারলেন না যে, দোয়া কবুল হওয়ার তথা মুক্তি পাওয়ার মুহুর্তটি হাড়িয়ে ফেলছেন! সেই থেকে কবি আব্দুর রশিদের আফসোসের যেন শেষ নেই।

আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফ কি বলে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী,
লাইলাতুল কদরের রাত বা শবে কদর এমন একটি মহিমান্বিত রাত যে রাতের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন পাকে মহান আল্লাহপাক বলেন, নিশ্চয়ই আমি এটা (অর্থাৎ কোরআন) শবে কদরে নাজিল করেছি। তুমি কি জান শবে কদর কী? শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। সে রাত আদ্যোপান্ত শান্তি ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা কদর, আয়াত : ১-৫)
যে রাতে মানবজাতির ভাগ্য পুনর্র্নিধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অর্থাত লাইলাতুল ক্বদর অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। কুরআনের বর্ণনা অনুসারে, মহান আল্লাহ পাক এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে আমরা বিশ্বাস করি।রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হেরা গুহায় যে রাতে আল্লাহর ফেরেশতা অহী নিয়ে এসেছিলেন সেটি ছিল রামাদান বা রমজান মাসের একটি রাত। এই রাতকে এখানে কদরের রাত বলা হয়েছে। সূরা দোখানে এটাকে মুবারক রাত বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে, “অবশ্যি আমি একে কোরআন) একটি বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি। “সূরা আদ-দুখান:-৩। কোরআন পাকে সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, লাইলাতুল-কদর রামাদান মাসে। কিন্তু সঠিক তারিখ সম্পর্কে আলেমগণের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। সহীহ হাদীসদৃষ্টিতে রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল-কদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল-কদর অন্বেষণ কর। “বুখারী: ২০২১। অন্য বর্ণনায় আছে “তোমরা তা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে তালাশ কর। “বুখারী: ২০২০, মুসলিম: ১১৬৯ ও তিরমিযী: ৭৯২।
সুতরাং লাইলাতুল-কদর রাত যে রামাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে ঘূর্ণায়মান এনিয়ে হাদীসসমূহ তথা আলেমগণের মধ্যে কোন বিরোধ পরিলক্ষিত হয়নি।
আসুন, মহিমান্বিত এই রাতের মহান আল্লাহ পাকের কুদরত বরকত অন্বেষণে সফলকাম হই।
এই আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সময় সুযোগে আমরা আলোচনা করবো।