ময়মনসিংহে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখলচ্যুতির অভিযোগ
- আপলোড সময়: ১০:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে

মো.মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ ব্যুরো:- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন ও দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও বেআইনিভাবে দখলচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বসতভিটার দখল পুনরুদ্ধারে পুলিশ সুপার বরাবর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী মোঃ এমদাদুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের এসব বিষয় জানায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিজপুবাইল এলাকার বাসিন্দা মোঃ এমদাদুল ইসলাম কমল সহ তার পরিবারের ২ জনের দীর্ঘদিন ধরে দত্তপাড়া মৌজার এসএ ১৩০১ ও বিআরএস ৪০৮৬ দাগের ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ আবাসিক জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বৈধভাবে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, রবিবার সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকায় মাজারের মুতাওয়াল্লি গিয়াস উদ্দিন,মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ আহমেদ আলী ও মোঃ মাহফুজুর রহমানসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এবং বেকু (এক্সকাভেটর) নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই সময় বসতবাড়ি ভাঙচুর করেন এবং ঘরের ইট ও বালুসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাদেরকে ভোগদখলীয় সম্পত্তি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। এই হামলার ফলে ভুক্তভোগী পরিবার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অমানবিক দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বসবাসরত অবস্থায় আকস্মিক এই হামলা, ভাঙচুর ও দখলচ্যুতির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন ভুক্তভোগী। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বৈধ দলিল, নামজারি এবং পৌর ট্যাক্স পরিশোধ সাপেক্ষে তাদের মালিকানা ও দখল সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
প্রবাসীর স্ত্রী ভুক্তভোগী পারভীন বলেন, জোর পূর্বক আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।আমরা এদের বিচার চাই। আমাদের সকল কাগজ পত্র থাকার পরও জোর পূর্বক এই জমি থেকে বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এভাবে উচ্ছেদ করেছে। দেশে কি কোন আইন নাই। আমি এদের কঠোর বিচার চাই। খেয়ে না খেয়ে জমানো টাকা দিয়ে জমিটা কিনেছিলাম কিন্তু এখন তাদের জন্য আর থাকতে পারলাম না। আল্লাহ যেন এদের বিচার করে।
অপরদিকে অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দিন ও আহমদ আলীকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা কলটি কেটে দেন। তাই অভিযুক্তদের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানায়,
বিএনপির কিছু নামধারী নেতারা তাদের এই ক্ষতি করেছে। ঘটনাটির বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জানমাল ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বসতভিটার দখল পুনরুদ্ধারে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।








