ময়মনসিংহ ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক দম্পতির করুণ পরিণতি, অগ্নিদগ্ধে স্ত্রীর মৃত্যু, স্ট্রোকে পঙ্গু স্বামী

দৈনিক মুক্তকণ্ঠ
  • আপলোড সময়: ০৭:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬১ বার পড়া হয়েছে

ভালুকা প্রতিনিধি:- একই কলেজে দীর্ঘ ২১ বছর শিক্ষকতা করেছেন তাঁরা। জীবনের প্রতিটি ধাপে একে অপরের পাশে ছিলেন পরম মমতায়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এক তুচ্ছ দুর্ঘটনায় তছনছ হয়ে গেল একটি সুন্দর সংসার। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন স্ত্রী, আর সেই শোক ও মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিরতরে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন স্বামী। জীবনের সব সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল শেষ করে আজ চরম নিঃস্ব এক সাবেক শিক্ষক দম্পতির পরিবার।

​মর্মান্তিক এই গল্পটি ময়মনসিংহের ভালুকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিকের (৫৫)। তিনি ও তাঁর স্ত্রী পারুল বানু লালমনিরহাটের তুষভান্ডার মহিলা ডিগ্রি কলেজে যথাক্রমে রসায়ন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা।

​২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন পারুল বানু। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। স্ত্রীর এই আকস্মিক ও করুণ বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি আবু বকর সিদ্দিক। শোকের তাপে ভেঙে পড়ে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

​বর্তমানে তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, কথা বলার ক্ষমতাও প্রায় বাকরুদ্ধ। ভারত ও ঢাকার শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে জীবনের সব সঞ্চয় ও ভিটেমাটি শেষ হয়ে গেছে। অবসরে যাওয়ার পর কলেজ থেকে অবসরকালীন কোনো পাওনাও এখনো হাতে পাননি। প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় অন্তত পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ কেনার সামর্থ্যও এখন আর তাঁর নেই।

​তাঁর একমাত্র সন্তান বর্তমানে খালার আশ্রয়ে থেকে রাজশাহীতে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। একদিকে নিজের চিকিৎসা, অন্যদিকে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো—সব মিলিয়ে চরম অন্ধকার নেমে এসেছে এই শিক্ষকের জীবনে।

​অশ্রুসজল কণ্ঠে আবু বকর বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। পকেটে ওষুধ কেনার টাকা নেই, ছেলেকে পড়ানোর ক্ষমতা নেই। বেঁচে থাকার জন্য দেশের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।”

​যে শিক্ষক দম্পতি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জীবনের আলো দেখিয়েছেন, আজ তাঁদের পরিবারটিই নিভে যাওয়ার উপক্রম। অসুস্থ আবু বকর সিদ্দিকের চিকিৎসা ও তাঁর এতিম সন্তানের শিক্ষা জীবন বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

​সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম:- ব্যাংক হিসাব: সোনালী ব্যাংক, কালীগঞ্জ শাখা, লালমনিরহাট হিসাব নম্বর: ৫২০৭০০২০৭৬০১৭ (সেভিংস) ​বিকাশ: ০১৭১০৮৬৯৮১১

ট্যাগস :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শিক্ষক দম্পতির করুণ পরিণতি, অগ্নিদগ্ধে স্ত্রীর মৃত্যু, স্ট্রোকে পঙ্গু স্বামী

আপলোড সময়: ০৭:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ভালুকা প্রতিনিধি:- একই কলেজে দীর্ঘ ২১ বছর শিক্ষকতা করেছেন তাঁরা। জীবনের প্রতিটি ধাপে একে অপরের পাশে ছিলেন পরম মমতায়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এক তুচ্ছ দুর্ঘটনায় তছনছ হয়ে গেল একটি সুন্দর সংসার। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন স্ত্রী, আর সেই শোক ও মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিরতরে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন স্বামী। জীবনের সব সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল শেষ করে আজ চরম নিঃস্ব এক সাবেক শিক্ষক দম্পতির পরিবার।

​মর্মান্তিক এই গল্পটি ময়মনসিংহের ভালুকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিকের (৫৫)। তিনি ও তাঁর স্ত্রী পারুল বানু লালমনিরহাটের তুষভান্ডার মহিলা ডিগ্রি কলেজে যথাক্রমে রসায়ন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা।

​২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন পারুল বানু। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। স্ত্রীর এই আকস্মিক ও করুণ বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি আবু বকর সিদ্দিক। শোকের তাপে ভেঙে পড়ে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

​বর্তমানে তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, কথা বলার ক্ষমতাও প্রায় বাকরুদ্ধ। ভারত ও ঢাকার শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে জীবনের সব সঞ্চয় ও ভিটেমাটি শেষ হয়ে গেছে। অবসরে যাওয়ার পর কলেজ থেকে অবসরকালীন কোনো পাওনাও এখনো হাতে পাননি। প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় অন্তত পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ কেনার সামর্থ্যও এখন আর তাঁর নেই।

​তাঁর একমাত্র সন্তান বর্তমানে খালার আশ্রয়ে থেকে রাজশাহীতে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। একদিকে নিজের চিকিৎসা, অন্যদিকে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো—সব মিলিয়ে চরম অন্ধকার নেমে এসেছে এই শিক্ষকের জীবনে।

​অশ্রুসজল কণ্ঠে আবু বকর বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। পকেটে ওষুধ কেনার টাকা নেই, ছেলেকে পড়ানোর ক্ষমতা নেই। বেঁচে থাকার জন্য দেশের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।”

​যে শিক্ষক দম্পতি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জীবনের আলো দেখিয়েছেন, আজ তাঁদের পরিবারটিই নিভে যাওয়ার উপক্রম। অসুস্থ আবু বকর সিদ্দিকের চিকিৎসা ও তাঁর এতিম সন্তানের শিক্ষা জীবন বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

​সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম:- ব্যাংক হিসাব: সোনালী ব্যাংক, কালীগঞ্জ শাখা, লালমনিরহাট হিসাব নম্বর: ৫২০৭০০২০৭৬০১৭ (সেভিংস) ​বিকাশ: ০১৭১০৮৬৯৮১১