ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগ নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ আহত ৩০
- আপলোড সময়: ১২:১৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯৭ বার পড়া হয়েছে

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:- ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের নির্বাচনী প্রচারণা ও তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ভালুকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বাটজোর বাজারে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ শুরু করলে ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকরা তার ওপর এবং হরিণ প্রতীকের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ভালুকা পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হরিণ প্রতীকের সমর্থক আদি খান শাকিল ও রাফি উল্ল্যাহ চৌধুরীসহ একাধিক কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়।
এসময় তার কর্মীবহন কারি গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করা হয় এবং একটি নোয়াহ গাড়ি আটক করে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে হরিণ প্রতীকের সমর্থক আদি খান শাকিলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। একইভাবে হরিণ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়েও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় একাধিক যানবাহন ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সিডস্টোর বাজারে যুবদল নেতা শামীমের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে শামীম ও খসরুসহ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন এবং ৭-৮টি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। এছাড়াও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে খান সোহাগের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেজরভিটা মহল্লায় কর্মী তিয়াস মাহমুদ শুভর বাসায় রাত ও মধ্যরাতে দুই দফা হামলা চালিয়ে গেট ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও গালাগালির অভিযোগ করা হয়।
এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভালুকা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা মোড়ে হরিণ প্রতীকের সমর্থক আনোয়ার ইসলামকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া মল্লিকবাড়ী, মেদুয়ারি, ভরাডোবা, কাচিনা, উথুরা ও রাজৈ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং মাইক ও অটোরিকশা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলেও দাবি করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, “সন্ত্রাসীরা উন্মুক্ত থাকলে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।









