ভালুকার গর্ব: একই পরিবারের চার সহোদর মুক্তিযোদ্ধা
- আপলোড সময়: ০৯:২৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে

শফিকুল ইসলাম সবুজ:- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নন্দিপাড়া গ্রামের নাম হয়তো জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি পরিচিত নয়। তবে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই গ্রামের রয়েছে এক অনন্য গৌরব। কারণ, এই গ্রামেরই এক পরিবার থেকে জন্ম নিয়েছিলেন চার সহোদর ভাই, যারা ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।
একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। উপজেলার নন্দিপাড়া গ্রামের মরহুম কেরামত আলী খানের চার সন্তান মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব খান, যুদ্ধকালীন সময়ে খুর্দ্দ পইদ্বার টেক নাম স্থানে গড়ে তুলে ছিলেন যুদ্ধকালীন বিশাল ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে পাঁচ উপজেলার ভালুকা, গফরগাঁও, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া ও শ্রীপুরের হাজার হাজার মুক্তি যোদ্ধা সশস্ত্র ট্রেনিং করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল আমিন খান (দুলু), বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দীন খান এবং মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন খান দেশমাতৃকার টানে ঘর ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করা এই চার ভাইয়ের বীরত্বগাথা আজও ভালুকাবাসীর কাছে গর্বের বিষয়। যুদ্ধকালীন সময়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেজর আফছার উদ্দিন।
নন্দিপাড়া গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা চার ভাই ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সাহসী ও দেশপ্রেমিক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক আসার পর তারা কেউ ঘরে বসে থাকেননি। পরিবারের চার সন্তানই একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, যা তাদের পরিবারকে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাসে পরিণত করেছে।
বর্তমানে দুই ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন খান (দুলু) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দীন খান এখনও জীবিত আছেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের বহু অজানা ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বাধীনতার স্মৃতি। অন্যদিকে আব্দুল মোতালেব খান ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর এবং নিজাম উদ্দিন খান ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
আজও নন্দিপাড়া গ্রামের মানুষ গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন সেই চার ভাইকে, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
ভালুকার উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নন্দিপাড়া গ্রাম শুধু একটি গ্রামের নাম নয়; এটি স্বাধীনতার জন্য এক পরিবারের চার সন্তানের অসামান্য আত্মত্যাগের এক গৌরবময় স্মারক।









