সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাহমিনা জামান শ্রাবনীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাবরের একান্ত সচিব মির্জা হায়দার। এ সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোণা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নিজে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকরা তার স্ত্রীর প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাবর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে তাহমিনা জামান শ্রাবনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মনোনয়নপত্রে স্বামীর নামের স্থানে লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম উল্লেখ রয়েছে।
দলীয় অবস্থান প্রসঙ্গে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বাবরের সহধর্মিণী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে দলীয়ভাবে এই আসনে লুৎফুজ্জামান বাবরকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’
মনোনয়ন পরিবর্তন বা জোটগত কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক আসনে স্বামী-স্ত্রীর মনোনয়ন দাখিল নির্বাচনী রাজনীতিতে বিরল নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি সম্ভাব্য অনিশ্চয়তা বা শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় রেখে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই আসনের চূড়ান্ত চিত্র।
নেত্রকোণা-৪ আসনে এই দ্বিমুখী মনোনয়ন দাখিল আগামী দিনে নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











